Thursday, March 15, 2018

ভালমানুষের গল্প




 ভালমানুষের গল্প
।। আবুল হোসাইন মাহমুদ।।

নিজকে গড়ার দিন

কুরাইশ। মক্কার বিখ্যাাত বংশ। সম্মান আর গৌরবের বংশ। গোটা আরবে এ বংশের সুনাম আর সুখ্যাতি। ধন-সম্পদ, জ্ঞান গরিমায় এ বংশের লোকদের জুড়ি নেই। আরবের অন্যান্য সকল বংশ ও গোত্রের লোকেরা এ বংশের লোকদের সম্মান করে, সমীহ করে। এ বংশেরই এক গোত্রের নাম তায়ীম গোত্র। এই তায়ীম গোত্রের এক সুদর্শন ছেলে। নাম আবদুল্লাহ। পিতামাতার নয়নমনি। আদরের সন্তান। দেখতে যেমন সুদর্শন, তেমনি তার বুদ্ধি আর জ্ঞান। তীক্ষè বুদ্ধিমত্তার সাথে তার আরেকটি সৌন্দর্য সততা। সবাই তার বুদ্ধি আর সততার প্রশংসা করে।
কুরাইশ বংশের লোকদের প্রভাব প্রতিপত্তি, ব্যবসা বাণিজ্য ও ধন সম্পদের প্রাচুর্যের খ্যাতি দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আবদুল্লার পিতারও তেমনি প্রভাব প্রতিপত্তি। ধনাঢ্য কাপড়ের ব্যবসায়ী হিসেবে সবাই তাকে চেনে। ব্যবসার কাজে তিনি ছুটে বেড়ান দেশ দেশান্তরে। একা আর কাহাঁ তক। তাই সাথে নিয়ে যান ছেলে আবদুল্লাকে। যেখানেই যান,
সাথে থাকে আবদুল্লাহ্।
আবদুল্লাহ্র সদ্ব্যবহার, চারিত্রিক মাধুর্য, ব্যবসায়িক সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতার সুনাম সারা মক্কায় ছড়িয়ে পড়েছে। সবাই বলে যেমন বাপ তেমন ছেলে। কেউ কেউ বলে, দেখো, আবদুল্লাহ তার বাপ আবু কোহাফার সুখ্যাতিকেও ছাড়িয়ে যাবে।
বয়স আর কত, উনিশ বিশ হবে। যৌবনে পা রেখেছে মাত্র। এতদিন পিতার সাথে সবখানে ব্যবসা বাণিজ্য করে বেড়িয়েছে। এবার তার বাপকে অবসর দেয়া দরকার। ঠিক করেছে একাই এবার তার পিতার ব্যবসার দেখভাল করবে। সত্যিই একদিন সে ব্যবসার যাবতীয় দায়দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিল। একজন জাত ব্যবসায়ীর যেমন অবসর নেই। তেমনি অবসর নেই আবদুল্লার। ব্যবসার উন্নতির জন্য তার পিতার মতই কঠোর পরিশ্রম করে সে। একবার এদেশে। আরেকবার অন্যদেশে। কখনো ইয়ামানে। কখনো সিরিয়ায়। এভাবে তার ব্যবসার উন্নতি হতে থাকে। বাড়তে থাকে সুনাম আর সুখ্যাতি। আর বাড়তে থাকে প্রভাব প্রতিপত্তি। মক্কার ঘরে ঘরে আলোচিত হয় সে।
এই আবদুল্লাহ আর কেউ নয়। এই আবদুল্লাহ্রই ডাক নাম আবুবকর। মা সালমা উম্মুল খায়ের মানত করে তার নাম রেখেছিল আবদুল কাবা। কাবার খাদেম। পরে তাকে আতীক ডাকা হতো। কিন্তু আবুবকর মানে উটের পিতা ডাকতেই সবাই পছন্দ করতো। আবুবকর উটের রোগের চিকিৎসা ভালো জানতো। তাই তাকে এ নামে ডাকা হতো।


গুণেই আনে মান

যে গাছে ফল ধরে না সে গাছের কোন দাম নেই। যে ফুলের সুবাস নেই সে ফুল হয় মূল্যহীন। ফুলের মূল্য তখনই হয় যখন ফুলের সৌন্দর্যের সাথে সুবাস থাকে। আবুবকর এটি ভাল করেই জানতো। এজন্যেই তার ব্যবসার প্রতি ছিল যেমন টান। তেমনি আগ্রহ ছিল জ্ঞানার্জনে। নিজেকে সবদিক দিয়ে যোগ্য করে তোলার জন্য আবু বকর ছিল সদা তৎপর। কৈশোর থেকে যৌবন এই পুরো সময়টাই তার কেটেছে দক্ষতা, জ্ঞান, বিশ্বস্ততা নামক গুণগুলি অর্জনে। কুরাইশদের বংশ তালিকা সম্পর্কে তাঁর ছিল পূর্ণজ্ঞান। এ জ্ঞানের অধিকারীকে তখনকার দিনে খুবই সম্মানের চোখে দেখা হতো।

কুরাইশ বংশে যোগ্যতর লোকের অভাব ছিল না। তারপরও কুরাইশ নেতৃবৃন্দ তাকে সম্মানের চোখে দেখতো। বিয়ে-শাদী, আচার অনুষ্ঠান, বিচার-ফয়সালা এমন কোন সামাজিক কাজ নেই যেখােেন আবু বকর নেই। তার উপস্থিতি সবখানেই অপরিহার্য। কি অনুষ্ঠানে, কি বিচার মিমাংসায়। নেতৃবৃন্দের সাথে তার মতামতও প্রাধান্য পেতো।
তার ব্যাক্তিত্বকে সে এভাবেই গড়ে তুলেছিল। তার সততা ও বিশ্বস্ততার কারণে, তার প্রতি কুরাইশদের অগাধ আস্থা ছিল। কারো টাকা জমা রাখা দরকার? যাও আবু বকরের কাছে। কারো ধন সম্পদ গচ্ছিত রাখা দরকার? যাও আবু বকরের কাছে। বিচারে কারো জরিমানা হেেলা। এ জরিমানার টাকা কার কাছে রাখা হবে? এ প্রশ্ন এলে সবাই এক বাক্যে বলতো আবু বকরের কাছে। কারো রক্তপণের টাকা জমা রাখতে হলে আবু বকরের কাছেই তা জমা রাখা হতো।
সম্মানের প্রথম কথা হলো জ্ঞান। আর তার সাথে বুদ্ধি, সততা আর বিশ্বস্ততা। এ গুণগুলি একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে। আবু বকর তার ব্যবসায়িক শত ব্যস্ততার মাঝেও এগুণগুলি অর্জন করেছিল। তাই সে হয়েছিল সম্মানের পাত্র।

ভালো চিনে ভালো

অন্ধকার যেমন সব কিছুকে আঁধার করে ফেলে। সেই আঁধারে কোথায় কি বিপদ লুকিয়ে আছে তা যেমন জানা যায় না, বুঝা যায় না। তেমনি তখনকার আরবকে পাপ পঙ্কিলতায় ঢেকে ফেলেছিল। সব ধরনের খারাপ কাজ তখন আরবে বিদ্যমান ছিল। কোন না কোনভাবে লোকেরা সেইসব পাপের কাজে অল্প বিস্তর জড়িত ছিল। মূর্তিপূজা, বেহায়াপনা, মিথ্যাচার, মদপান, নারী হত্যা; বলে শেষ করা যায় না। এত পাপাচার তখন চলতো। আবু বকর সেই পরিবেশে মানুষ। মূর্তিপূজার পরিবেশেই কেটেছে শৈশব, কৈশোর। ইচ্ছে করলে অনায়াসেই সে এসব করতে পারতো। বাধা দেবার কেউ নেই। কারণ সবাই তো ঐ পথেরই পথিক। মূর্তিপূজাকে সে ঘৃণা করে। তার সমবয়সীরা এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়। নানান পাপাচারে লিপ্ত হয়। আবু বকরের এসব ভালো লাগে না। কিন্তু একা তো আর থাকা যায় না। তাই সে বন্ধু  খোঁজে। খোঁজে কাংখিত ভাল মানুষ।
কিন্তু বন্ধুত্ব? সে তো আর যার তার সাথে করা যায় না। করলে তার মতই কারো সাথে। তার সমবয়সীদের মধ্যে সে একজনকেই চিনে যে সৎ, এবং নির্মল চরিত্রের অধিকারী। তাঁকে ছাড়া বন্ধুরূপে আর কাউকে কল্পনাও করা যায় না। ঐ বালকটির সাথেই তার বন্ধুত্ব হলো। বালকটির নাম মুহাম্মদ। লোকে তাঁকে আল আমীন বলে।
মুহাম্মদ, আবু বকরের দুই বছর তিনমাসের বড়। এই দুই বছরের পার্থক্যটা তেমন কিছু নয়। তারা এক সাথে চলাফেরা করে। উভয়কে সমবয়সী বলেই মনে হয়। মুহাম্মদ খোদা প্রদত্ত সব সৎ গুণের অধিকারী। তাই তারও এমন একজন বন্ধুরই দরকার, যে নাকি সৎ ও সৎচরিত্রের অধিকারী। উভয়ে উভয়কে ভাল করে চিনে। তাই উভয়ের বন্ধুত্ব গাঢ় হলো। আবু বকর তার কাংখিত বন্ধু মুহাম্মদের সাথে শৈশব, কৈশোর কাটায়।
এখন যৌবন। বন্ধুত্ব মিটে যাবার কথা নয়। বরং দীদর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরো গাঢ় হয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্যের কাজ শেষ করে দুবন্ধু একসাথেই সময় কাটায়। একজন আরেক জনের বাড়ীতে যাওয়া আসা করে। কারো বাড়ীতে ভালো খাবার তৈরী হলে তা বন্ধুর বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। এভাবেই ভাল মানুষের সাথে ভাল মানুষের বন্ধুত্ব হয়। আর এই বন্ধুত্ব আমৃত্যু ছিল। পরকালেও থাকবে। সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস বলে একটা কথা আছে। মুহাম্মদের মত ভালো মানুষের সাথে বন্ধুত্ব থাকার কারণে মূর্তিপূজার ভয়াবহ সয়লাবেও আবু বকর কখনো মূর্তিপূজা করেনি। অন্যসব খারাপ কাজ যেমন নির্লজ্জতা, মন্দ কথা, মদপান থেকে আবু বকর বরাবরই বিরত থাকতো। তার সমবয়সীরা কোন অনুষ্ঠানে মদপান করতে আহবান করলে আবু বকর তাদেরকে বিনয়ের সাথে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতো।
এ সব কাজকে আমি আমার নিজের জন্য অপমানজনক ও অবমাননাকর মনে করি। সুতরাং এসব কাজে আমি অংশ নেব, এ আশা আপনারা কখনোই করবেন না।

আলো পাবার আশায়

প্রচন্ড খরায়  সব কিছু শুকিয়ে যায়। মাঠ-ঘাট, ফেটে চৌচির হয়। তীব্র খরা মানুষকে বৃষ্টি আকাংখী করে তোলে। কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য মানুষ তখন অস্থির হয়ে পড়ে। পানি। কেবল পানিই তখন একমাত্র কামনা। মানুষ যখন কোন কিছুর মাধ্যমে জানতে পারে যে বৃষ্টি হবে বা বৃষ্টি আসার সময় হয়েছে, তখন মানুষের বৃষ্টি বা পানির পাবার আকাংখার তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। তখনকার বিশ্ব তেমনি পাপের খরায় চৌচির হয়ে গিয়েছিল। সীমাহীন অপকর্মে গোটা দুনিয়া দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। পাপচারে গ্রাস করেছিল সব। তাই মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছিল। অনেরকই ধারণা করেছিল ইঞ্জিল কিতাবে যে নবীর আর্বিভাবের কথা বলা হয়েছে, তাঁর আগমনের সময় বুঝি হয়ে এলো। জ্ঞানী গুণীদের কাছে এটা আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মতই ছিল। তাই এ নিয়ে আলোচনা হতো। মানুষ  সেই প্রতীক্ষিত নবীর আগমনের প্রতীক্ষায় ছিলো।
একদিন আবু বকর কাবার আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছে। এমন সময় বিখ্যাত কবি উমাইয়া ইবনে সল্ত এলেন। এসে পাশে দাঁড়ালেন। বললেন
আবু বকর! যে নবীর প্রতীক্ষা করা হচ্ছে, তিনি মক্কায় প্রেরিত হবেন, না তায়েফে?
আবু বকর ফিরে তাকায়। এরপর বললো -
তিনি কোথায় প্রেরিত হবেন, তা আমি বলতে পারছিনা।
এই জবাব শুনে কবি উমাইয়া আর কিছুই বললেন না। তিনি চলে গেলেন।
এ দিকে উমাইয়া ইবনে সল্তের জিজ্ঞাসার কারণে আবু বকরের আগ্রহ আরো বেড়ে গেল। আবু বকর ভাবলো, কার কাছ থেকে এ বিষয়টা জানা যায়?
রওনা হলো তার চাচাত ভাই ইবনে নওফলের কাছে। ওরাকা ইবনে নওফল। তখনকার আরবে তওরাত এবং ইঞ্জিলের একজন বিশিষ্ট জ্ঞানী ব্যক্তি। তিনি অন্ধ ছিলেন। তাঁর কাছে উপস্থিত হলো আবু বকর। বললো উমাইয়া ইবনে সলতের কথা। ওরাকা উবনে নওফল আবু বকরের সব কথা শুনে বললেন -
এ বিষয়ে আমি অনেক চিন্তা ভাবনা করেছি। ভেবে চিন্তে এবং গবেষণা করে আমার এই মনে হয়েছে যে, সেই প্রতিশ্রুত নবী আরবের মধ্যবর্তী স্থানেই প্রেরিত হবেন। আর আমার মতে ঐ স্থানটি হলো এই মক্কা নগরী। আর মক্কার শ্রেষ্ঠ বংশ হচ্ছে কুরাইশ। সুতরাং এটা ধরে নেয়া যায় যে তিনি কুরাইশ বংশেই প্রেরিত হবেন।
ওরাকার কাছে এই তথ্য শুনে আবু বকর সেদিন থেকে আলো পাবার আশায় আলোর দিশারী নবীর প্রতীক্ষা করতে লাগলো।
একবার ব্যবসার কাজে আবু বকর শামদেশে অর্থাৎ সিরিয়ায় অবস্থান করছিল। একরাতে আবু বকর স্বপ্নে দেখলো মক্কা নগরীতে এক সুন্দর স্বচ্ছ চাঁদ উদিত হয়েছে। যার আলোক রশ্মি প্রতিটি ঘরে পৌছেছে। আর তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর আরো দেখলো যে, ঐ আলোক রশ্মির সব অংশ একত্রিত হয়ে তার নিজের কোলে এসে পড়েছে।
সকালে আবু বকর এই স্বপ্নের রহস্য জানার জন্য বোহাইরা নামক এক পন্ডিত ব্যক্তির কাছে যায় এবং তাঁকে সব খুলে বলে। বোহাইরা স্বপ্নের কথা শুনে তার কাছে তার নাম, বংশ, গোত্র ও ব্যবসা এবং অন্যান্য কিছু খুঁটিনাটি প্রশ্ন করে বললেন -
আপনর খুশী হওয়া উচিৎ। কারণ, আল্লাহ্ পাক আপনাকে স্বপ্নের মাধ্যমে একটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ সেই প্রতিশ্রুত শেষ নবী আসছেন। যারপর আর কোন নবী আসবেন না। তিনি মক্কা নগরীতে আপনার বংশেই আর্বিভূত হবেন। হে আবু বকর! আপনি তাঁর অনুসরণ করবেন। আর তাঁর পরে আপনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
স্বপ্নের এই তদবীর শুনে আবু বকর যারপরনাই খুশী হলো। অধীর আগ্রহে সেই নবীর আর্বিভাবের অপেক্ষা করতে লাগলো। আর প্রত্যাশিত আলো পাবার আশায় দিন গুনতে লাগলো।
প্রতীক্ষা। আলোর মশালধারী আগমনের প্রতীক্ষা। নবী আসার প্রতীক্ষা। সমস্ত ব্যস্ততার মাঝে আবু বকরের প্রতীক্ষায় দিন শেষ হয় না। কবে আসবেন তিনি। আসবেন তো মক্কা নগরীতে। আসবেন কুরাইশ বংশে। স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারীরাতো তা-ই বলেছেন। সময়ও তো মনে হয় হয়ে গেছে।
কিন্তু যে বংশে নবী প্রেরিত হবেন, সে বংশে নবুয়তের গুণাবলী সম্পন্ন কে আছেন? কার মধ্যে নবুয়তের গুণাবলী আছে?
একে একে হৃদয়ের আয়নায় অনেকের মুখচ্ছবি দেখে নিলো আবু বকর। নবী হওয়া অনেক বড় ব্যাপার। আল্লাহ্ যাকে নবী করে পাঠাবেন, মানুষের মধ্যে তিনি হবেন অনন্য গুণের অধিকারী। তিনি হবেন সেরা মানুষ। শ্রেষ্ট চরিত্রের মানুষ।
কুরাইশ বংশের সবাইকেই আবু বকর জানে। চিনে। সবার মুখের আদল আবার তার হৃদয়পটে ভেসে উঠলো। শ্রেষ্ঠতার বিচারে উন্নত চরিত্রের মাধুর্য্যরে বিচারে কে আছেন?
আছেন। কেবল একজনই আছেন। তার মনের পর্দায় শুধু তাঁরই প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে। কেবল তাঁরই। তিনিই সবদিক দিয়ে নবী হবার উপযুক্ত। তিনি আর কেই নন। আবু বকরেরই প্রিয়তম বন্ধু মুহাম্মদ (সঃ)। মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ। সততা, নির্মল স্বভাব, অসংখ্য সৎগুণের একমাত্র তিনিই অধিকারী। বাল্যকাল থেকেই আবু বকর তাঁকে চেনে। জানে। তাঁর অপূর্ব গুণাবলী ও উজ্জ্বল মুখমন্ডলের দিকে তাকিয়ে তাঁর নবুয়তের লক্ষণের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস সৃষ্টি হচ্ছিল।
ইতিমধ্যেই হেরা পর্বতের গুহায়
নামুসে আকবার হযরত জিব্রাইল (আঃ) এর মাধ্যমে
মুহাম্মদ (সঃ) কে অহী নাযিলের মাধ্যমে
আল্লাহ্ তাঁর প্রতিশ্রুত নবুয়ত দান করেন।
উম্মল মোমেনীন রাসূলের সহধর্মিনী হযরত খাদিজা (রাঃ) অহী নাযিলের পর নবীর মধ্যে যে অভূতপুর্ব ও অসাধারণ পরিবর্তন আসে তা জানার জন্য নবীকে নিয়ে খাদিজার চাচাত ভাই ওরাকা ইবনে নওফলের কাছে যান। ওরাকাই তাঁকে বলে দেন যে তাঁর কাছে জিব্রাইল এসেছিল এবং তাঁকে নবুয়ত দান করা হয়েছে।
এ কথা শুনে হযরত খাদিজা রাসূলে প্রতি প্রথম ঈমান আনেন। প্রথম মুসলমান হওয়ার গৌরব তিনি অর্জন করেন। এরপর দ্বিতীয় ইসলাম গ্রহণকারী ছিলেন দশ বছর বয়সের হযরত আলী (রাঃ)। তৃতীয় ইসলাম গ্রহণকারী হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা (রাঃ)। তিনি ছিলেন রাসূল (সাঃ) এর গোলাম।

No comments: